ব্যাক্তিত্ব নিয়ে যত কথা

ব্যাক্তিত্ব কি? বা, ব্যাক্তিত্ব বলতে আমরা কি বুঝি? কিসের ভিত্তিতে আমরা বলি উনার ব্যাক্তিত্ব অনেক প্রখর আর উনার ব্যাক্তিত্ব নেই। আসলে এটা কি পরিমাপের বিষয়? এটা কি তুলনা করা যায়? এসব জিজ্ঞাসাকে সামনে রেখেই জানতে শুরু করেছিলাম। জানার জন্য বেছে নিয়েছিলাম ইন্টারনেট। ইন্টারনেট থেকে যা জানতে পেরেছি এবং নিজের কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেই এই লেখনি।

এক কথায় বলতে গেলে ব্যাক্তিত্ব হচ্ছে অভিজ্ঞতার ঝুলি, আর এই ঝুলিতে রয়েছে – আমরা প্রতিনিয়ত যা বলি, যা করি, যা অনুভব করি, যা ভাবি, যা আশা করি, যা বিশ্বাস করি; সাথে রয়েছে চলার পথে আমরা কোন পরিস্থিতিতে কি প্রতিক্রিয়া দেখাই সে সবকিছু।

ব্যাক্তিত্বের সাথে অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িয়ে আছে মানবিক সর্ম্পক বা হিউম্যান রিলেশন। মানবিক সর্ম্পকের উন্নয়ন ছাড়া ব্যাক্তিত্বের উন্নয়ন অসম্ভব। আমাদের যদি প্রশ্ন করা হয় আপনার মানবিক সর্ম্পক বা হিউম্যান রিলেশন কেমন? আমরা কেউ কি বলবো খারাপ? হয়তো কেউই তা বলতে চাইবোনা। কিন্তু এই লেখাটার আর কিছুটা পড়ার পর কিন্তু আপনিই নিজেকে উত্তর দিবেন, আপনার মানবিক সর্ম্পক কেমন। কি ঠিক আছে? তাহলে চলুন প্রথমেই জেনে নেই মানবিক সর্ম্পক বলতে কি বুঝায়। ইংরেজীতে হিউম্যান রিলেশনের প্রতিটি অক্ষরের একটা করে অর্থ রয়েছে। সেই অর্থগুলোই এখানে দিলাম-

H = Have self control (নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ)
U = Understanding from others view point (অপরের অবস্থান থেকে চিন্তা করা)
M = Make others interest as your own (নিজের মতো অপরের আগ্রহও তৈরী করা)
A = Admit when you are wrong (নিজের ভুল স্বীকার করা)
N = Never criticize publicly (সবার সামনে সমালোচনা না করা)
R = Reasons should be constructive (প্রতিটি কাজের গঠনমূলক কারণ থাকা)
E = Explain precisely and to the point (সংক্ষেপে এবং ঠিক বিষয়ের ব্যাখ্যায় পারঙ্গম হওয়া)
L = Lead but do not drive (দিক নির্দেশক হওয়া, কিন্তু চালক না হওয়া)
A = Avoid quick judgment (অতিদ্রুত বিচার করা যাবে না)
T = Take care of little things (বিষয় যত ক্ষুদ্রই হোক তা বিবেচনায় আনা)
I = Inform others about the matter (সবাইকে জানানো)
O = Offer helpful suggestion (অপরকে সাহায্য করা)
N = Never forget to praise for a job well done (ভাল কাজের জন্য উপযুক্ত সন্মান জানানো)
S = Stress the positive (ধনাত্মক চিন্তার অধিকারী হওয়া)

যদি উপরের এই বিষয়গুলো আমরা মেনে চলতে পারি তবেই আমাদের মানবিক সর্ম্পক ভালো বলা যেতে পারে। তবেই আমাদের ব্যাক্তিত্বের প্রখরতা কিছুটা চোখে পরবে। এখন যদি উপরের এই বিষয়গুলো বিবেচনা সাপেক্ষে আমাদের বলা হয়, আমাদের মানবিক সর্ম্পক কি রকম? উত্তরটা কি আগের মতোই হবে???

আমাদের ব্যাক্তিত্বের উপর অন্যের কাছে আমাদের গ্রহনযোগ্যতা নির্ভর করে। আর অন্যের কাছে গ্রহনযোগ্যতার উপর ব্যাক্তি জীবনের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে বিধায়ই ব্যাক্তিত্ব নিয়ে যুগ যুগ ধরে মানুষের এতো চিন্তা-ভাবনা। জীবনের সফলতার ধাপগুলো দ্রুত পেরিয়ে যাওয়ার জন্যই আমাদের ব্যাক্তিত্বের বিকাশ এবং উন্নয়ন প্রয়োজন। আর এই কাজটি করতে হলে আমাদের নিচের বিষয়গুলো একটু খেয়াল করতে হবে-

১) কখনোই অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করবেন না। যদি তুলনা করেন তাহলে আপনি নিজেকেই ছোট করবেন।
২) যদি আপনি অসুখি হন, জীবন আপনাকে নিয়ে বিদ্রুপের হাসি হাসবে। আপনি যদি সুখি হন, তাহলে মুচকি হাসবে। আর যদি আপনি অন্যকে সুখি করতে পারেন, তাহলে আপনাকে স্যালুট করবে।
৩) প্রত্যেক সফল মানুষের জীবনেই কষ্টকর একটি ইতিহাস আছে। প্রতিটি কষ্টকর ইতিহাসের একটি সফল সমাপ্তি আছে। কষ্টকে গ্রহন করতে প্রস্তুত হোন, সফলতা আসবেই।
৪) অন্যের দোষ ধরা খুবই সহজ। কিন্তু আমাদের নিজেদের দোষ ধরতে পারাটা কঠিন। নিজের পা-টাকে জুতা পরিয়ে সুন্দর রাখাটা, পৃথিবীকে কার্পেট দিয়ে মুড়ানোর চেয়ে অনেক সহজ।
৫) কেউই পিছনে ফিরে গিয়ে নতুন করে সূচনা করতে পারে না। বরং এখন থেকেই নতুন করে শুভসূচনার মাধ্যমে সফল সমাপ্তি সম্ভব।
৬) একটি সমস্যা সমাধান হয়ে গেলে তা নিয়ে আর ভাবার কিছু নেই। একটি সমস্যা যদি সমাধান সম্ভবই না হয়, তাহলে তা নিয়ে ভেবে কি হবে?
৭) কখনো পরাজিত হলে মন খারাপের কিছু নেই, বরং এর মাঝেই হয়তো মঙ্গল কিছু লুকিয়ে আছে।
৮) দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন (Changing the Face) কিছুই বদলাতে পারে না। কিন্তু পরিবর্তনের দৃষ্টিভঙ্গী (Facing the Change) অনেক কিছু বদলাতে পারে। অন্যের ব্যাপারে অভিযোগ করবেন না। বরং নিজেকে পরিবর্তনই মূখ্য।
৯) ভুল আমাদের তাৎক্ষনিক পীড়া দেয়। কিন্তু ভুল জমতে জমতেই অভিজ্ঞতার জন্ম হয়, যা আমাদের সফলতার পথ দেখায়।
১০) পরাজয়ে শক্ত থাকুন আর জয়ী হলে সাবলীল।
১১) সোনা গলিয়ে অলংকার হয়। ধাতু পিটিয়ে পাত্র তৈরী হয়। পাথর কেটে মূতি গড়া হয়। তাই জীবনে যত কষ্ট পাবেন, ততই খাটিঁ ও দামী হবেন।

জীবনে কখনো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে ভেঙ্গে পরবেন না। বরং পরিস্থিতিটুকু বুঝতে হবে। সত্যি কথা বলতে ব্যাক্তিত্ব গঠন বা পরিবর্তন একদিনের বিষয় নয়। এটা নির্ভর করে পরিবর্তনের প্রতি আপনার আগ্রহ এবং উৎসাহের উপর। আপনার ব্যাক্তিত্বের দূর্বল দিকগুলো খুজেঁ বের করার চেষ্টা করুন। চেষ্টা করুন সেগুলো সমাধানের। পরিশেষে কয়েকটি প্রশ্ন করে শেষ করছি -

১) আমরা কি আমাদের শিক্ষক বা অফিসের বসকে যতটুকু সন্মান দিয়ে কথা বলি পরিবারের বয়স্কদের সাথেও কি ততটুকু সন্মান দিয়ে কথা বলি???
২) কখনো মজা করার সময় কি আমরা এটুকু খেয়াল করি, যাকে নিয়ে মজা করা হচ্ছে, তার অবস্থানে আমি থাকলে আমার কেমন লাগতো???
৩) কেউ আমার কোন কথা বা কাজের দ্বারা আঘাত পাচ্ছে কিনা, তা কি আমরা খেয়াল রাখি???
৪) আমাদের চেয়ে বয়সে ছোটদের প্রতি আমরা কি সবসময় সঠিক আচরণটি করি???

সকলের সুখী জীবনের কামনায়…

ভালো থাকবেন…

———————
ছবিসূত্রঃ ইন্টারনেট

6 Responses

  1. এত জ্ঞান কই পান ?
    http://www.rajibblog.co.cc/

  2. [...] বলছিলাম ব্যাক্তিত্ব নিয়ে যত কথা। আজ বলবো আত্মবিশ্বাস নিয়ে। [...]

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.